হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু

প্রবাসীকর্মী ও যাত্রীদের দ্রুততম সময়ে করোনা পরীক্ষা করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার সকাল থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনা পরীক্ষার মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। যদিও এই কার্যক্রম গতকাল শনিবার থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল।

 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ রোববার দুপুরে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, আজ থেকে টেস্ট ট্রায়াল শুরু করা হয়েছে। মোট ছয়টি প্রতিষ্ঠান বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষা করবে। ওই ছয় প্রতিষ্ঠানের মোট ১৮ জনের নমুনা আজ নেওয়া হয়েছে। তাঁরাই করোনা পরীক্ষার কাজে যুক্ত থাকবেন। তাঁদের দিয়ে ট্রায়াল শুরু করা হচ্ছে, কারণ তারা যদি আক্রান্ত থাকেন, সেটা বিপদের হবে। ফলে আগে তাঁরা নিরাপদ কিনা তা দেখা হচ্ছে।

 

এই নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেলে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাব, আমাদের ল্যাব সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তারপর তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করবেন। তবে এটি কবে থেকে হবে, এখনই বলা যাচ্ছে না, যোগ করেন সাজ্জাদ।

 

এর মধ্যেই করোনা পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাইরোলজিস্টেরা বিমানবন্দরে হাজির হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলোস্টেমজ হেলথকেয়ার (বিডি) লিমিটেড, সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার, এএমজেড হাসপাতাল লিমিটেড, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গুলশান ক্লিনিক লিমিটেড ও ডিএমএফআর মলিকুলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক।

 

শাহরিয়ার সাজ্জাদ গতকাল শনিবার গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, শনিবার রাতে পরীক্ষামূলকভাবে ল্যাবগুলো চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান ও বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যদের কিছু পর্যবেক্ষণ থাকায় আজ সকাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ল্যাবগুলো চালু করা হয়েছে।

 

এদিকে গতকাল শনিবার বিমানবন্দরের চামেলী-বিডা লাউঞ্জে বিদেশগামী যাত্রীদের দ্রুত কোভিড পরীক্ষাপূর্বক রিপোর্ট প্রদান বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। সভায় লাইন ডিরেক্টর (সিডিসি), সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখার কর্মকর্তা, বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ও ল্যাব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সভায় বিদেশগামী যাত্রীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোভিড পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং কোভিড পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ নিয়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনা হয়। সভার এক পর্যায়ে উপস্থিত সবাই বিমানবন্দরে স্থাপিত পিসিআর ল্যাব পরিদর্শন করেন।

 

করোনা মহামারির মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিমান যোগাযোগ শুরু হলেও ফ্লাইটের ছয় ঘণ্টার মধ্যে র‌্যাপিড পিসিআর টেস্ট করে ফল নেগেটিভ আসতে হবেএমন শর্ত আরোপ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ছাড়াও আমিরাতে প্রবেশের পর আবারও করোনা পরীক্ষা করা হবে।

 

আমিরাতের দেওয়া ছয় ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষার শর্তের জন্য বাংলাদেশে আটকে যান প্রায় সাত হাজার প্রবাসী। ল্যাব স্থাপনের ফলে তাঁরা শিগগিরই দেশটিতে যেতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। তথ্য: এনটিভি