ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের ১০ দফা দাবির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ

ই-অরেঞ্জের টাকা ফেরত ও ইন্সপেক্টর সোহেল
রানাসহ প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে সমাবেশ শেষে আন্দোলনরত গ্রাহকদের প্রতিবাদ
মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে
সকাল সাড়ে ১০টায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় ৩০০ গ্রাহক 'ই-অরেঞ্জ ভুক্তভোগী
কেন্দ্রীয় কমিটি'-এর ব্যানারে ১০ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রমনা
বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, গ্রাহকরা সকালে
এসে প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট এবং আশপাশের রাস্তা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে
তাদের সরে যেতে বললে পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
করতে গেলে কয়েকজন আহত হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ
মোতায়েন করা হয়েছে।
ই-অরেঞ্জের গ্রাহকরা জানিয়েছেন, পূর্বনির্ধারিত
কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে তারা প্রেসক্লাবের সামনে ই-অরেঞ্জের প্রধান পৃষ্ঠপোষক
ভারতে আটক সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচারের জন্য মিছিল করতে থাকে। একপর্যায়ে
মিছিলটি মৎস্য ভবনের দিকে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় ৩/৪ জন গ্রাহককে আটক করে থানায়
নিয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, মিছিলে পুলিশের
লাঠিচার্জে তাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
গ্রাহকদের ১০ দফা দাবিগুলো হল-
১. ই-অরেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত ওসি সোহেলের
সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগীদের টাকা অনতিবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে।
২. ই-অরেঞ্জ যেহেতু অরেঞ্জ বাংলাদেশের
সিস্টার কনসার্ন তাই সব ভুক্তভোগী গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতির দায়ভার অরেঞ্জ বাংলাদেশকে
নিতে হবে।
৩. ই-অরেঞ্জ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি
ও জড়িত সব সরকারি আমলা, কর্তাব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ
করত হবে।
৪. এখন পর্যন্ত দায়ের করা সব মামলা দ্রুত
বিচার ট্রাইবুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৫. ই-অরেঞ্জ প্রতারণার মাস্টারমাইন্ড ওসি
সোহেলকে অচিরেই দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
৬. SSLCOMMERZ-এ ই-অরেঞ্জ এর কত টাকা আটকে
আছে সে সম্পর্কিত তথ্য অনতিবিলম্বে প্রকাশ করে আটকে থাকা টাকা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে
হবে।
৭. ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে সব তদন্ত রিপোর্ট
প্রকাশ করতে হবে।
৮. আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া হলো, কিন্তু
কোনো রিমান্ড রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি কেন? অনতিবিলম্বে রিমান্ডে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ
তথ্য সংবাদ সম্মেলন করে জানাতে হবে।
৯. অচিরেই ই-ক্যাবকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা
হোক। সেই সঙ্গে আইনের আওতায় এনে ই-ক্যাবের অসঙ্গতির সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক।
১০. ই-অরেঞ্জসহ সব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে
বৈধতা দানকারী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ভুক্তভোগী
গ্রাহকদের ক্ষতির দায়ভার নিয়ে দ্রুত সমস্যা নিষ্পত্তি করতে হবে। সুষ্ঠু সমাধান
না আসা পর্যন্ত আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করার দাবি জানানো হয়।








