রোববার খুলছে রপ্তানিমুখী সব শিল্প-কারখানা

ঈদুল আজহার আগে-পরে আট দিন শিথিল রাখার পর সরকার আবার ১৪ দিনের কঠোর বিধি-নিষেধ জারি করেছিল, কিন্তু এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আট দিনের মাথায় গতকাল শুক্রবার রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। সরকারি ছুটির দিনেই এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কঠোর বিধি-নিষেধ শেষ হবে আগামী ৫ আগস্ট।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে রফতানিমুখী সব শিল্প ও কলকারখানা আরোপিত বিধিনিষেধের আওতা বহির্ভূত রাখা হলো।

 

এই সিদ্ধান্তের ফলে রোববার সকাল থেকেই খুলছে রফতানিমুখী সব শিল্প-কারখানা।

 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। এই বিধিনিষেধ চলবে আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত। বিধিনিষেধে সব ধরনের গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ আছে। খাদ্যপণ্য উৎপাদন-প্রক্রিয়াকরণ, চামড়া পরিবহন-সংরক্ষণ ও ওষুধ খাত ছাড়া বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিল্প-কারখানা।

 

এর মধ্যে গার্মেন্টসসহ সব ধরনের শিল্প-কারখানা খুলে দিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন মালিকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা এই দাবি জানান।

 

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ফারুক হাসান সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা ক্যাবিনেট সচিবের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম, সব ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। এই যে লকডাউনটা আছে, এটা থেকে যেন সমস্ত ধরনের শিল্পকে কাজ করতে সুযোগ দেয়া হয়। এটাই আমরা উনার কাছে অনুরোধ করতে আসছি।

 

অনুরোধের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কী জানানো হয়েছে- জানতে চাইলে ফারুক হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে উনার (মন্ত্রিপরিষদ সচিব) মাধ্যমে এই অনুরোধটা আমরা করেছি। তিনি (মন্ত্রিপরিষদ সচিব) বলেছেন, উনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। কথা বলে এই ডিসিশানটা খুব তাড়াতাড়ি দেবেন। করোনা পরিস্থিতি, সংক্রমণ, মৃত্যু সবকিছু মাথায় নিয়ে সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকার এটা বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি।

 

 

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ফারুক হাসান সাংবাদিকদের বলেন, কারখানায় আসার সুযোগ থাকলে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবেন। কেউ গ্রামে চলে গেলে লকডাউনের পর কাজে যোগ দিতে পারেন। কারো চাকরি যাবে না। ন্যায্য মজুরি থেকেও বঞ্চিত হবেন না।

 

তিনি আরো বলেন, কারো চাকরি গেলে আমাদের জানাবেন। আমরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালুর জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

সরকারের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আকতার বলেন, হঠাৎ কারখানা খুলে দেওয়ার সরকারের এমন সিদ্ধান্তে শ্রমিকরা আবারও সংকটে পড়ে গেলেন। তিনি আরো বলেন, যাঁরা ছুটিতে গ্রামে চলে গেছেন তাঁদের এখন কী হবে? তাঁরা এখন মজুরিও হারাবে, একই সঙ্গে চাকরি যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। গত বছর কারখানা হঠাৎ খুলে দেওয়ায় শ্রমিকরা হেঁটে ভেঙে ভেঙে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে এসে কারখানায় যোগ দিলেও কোনো ঝুঁকি ভাতা বা যাতায়াত ভাতা পাননি। এবারও মালিকদের সুবিধা দিলেও শ্রমিকরা বরাবরের মতো বঞ্চিত হবেন। শ্রমিকদের এসব সুবিধা নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।