নতুন যে দারিদ্রতা তৈরি হয়েছে, সেটা সাময়িক : পরিকল্পনামন্ত্রী

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন,
করোনা মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে যে দারিদ্রতা তৈরি হয়েছে, সেটা সাময়িক। রাজস্ব
আহরণ বাড়ানোর মাধ্যমে সরকারের কর্মসূচিগুলো সময়মত বাস্তবায়ন করা গেলে নতুন করে তৈরি
হওয়া দারিদ্রতা দ্রুত বিমোচন করা সম্ভব হবে।
রোববার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স
এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট (পিআরআই)
আয়োজিত বাজেট বিষয়ক এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবীরের
সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির
সভাপতি আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি
ওয়াশেকা আয়েশা খান, বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাহিদী সাত্তার
ও নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, এমসিসিআই সহসভাপতি আনিস এ খান প্রমূখ বক্তব্য
রাখেন।
অনুষ্ঠানে পিআরআই গবেষণা পরিচালক ড. এম
এ রাজ্জাক ও এমসিসিআই ট্যারিফ এন্ড ট্যাক্সেশন উপকমিটির চেয়ারম্যান আদিব এইচ খান দু’টি পৃথক প্রবন্ধ
উপস্থাপন করেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দারিদ্রতা বিমোচনে
সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে
ঘর দেয়া হচ্ছে। গতকাল ৫৩ হাজার পরিবারকে ঘরের মালিকানা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কেবল
ঘর দেয়া হচ্ছে না, একইসাথে তাদের জন্য বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন ও খাবার পানির ব্যবস্থা
করা হয়েছে। এছাড়া মানুষকে নগদ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। সরকারের চলমান কর্মসূচির পাশাপাশি
এবারের বাজেটে দারিদ্র বিমোচনে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। তাই আশা করি নতুন করে যারা
গরীব হয়েছেন, তারা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।
এম এ মান্নান মনে করেন, দেশে যে পরিমাণ
সম্পদ তৈরি হয়েছে, সেই পরিমাণ রাজস্ব সংগ্রহ হচ্ছে না। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে পারলে সরকার
দারিদ্র বিমোচনের জন্য আরও বিস্তৃত কর্মসূচি নিতে পারবে। তিনি রাজস্ব আহরণ সম্প্রসারণে
ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারের বাজেট
ব্যবসা বান্ধব হয়েছে। সরকার যেহেতু উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাই ব্যক্তিখাতের
প্রসারে আমরা নানা উদ্যোগ নিচ্ছি। ব্যবসায়ীরা বাজেট নিয়ে যেসব পরামর্শ দিচ্ছেন, আমরা
খোলামনে সেগুলো শুনছি। যৌক্তিক পরামর্শগুলো ইতিবাচকভাবে দেখা হবে বলে তিনি জানান।
কোভিডকালীন সরকারের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য
আছে কিনা এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য
লুকানোর কিছু নাই। আমরা সবসময় সঠিক তথ্য দিতে চাই। তিনি জানান, তথ্যের গুনগত মান বৃদ্ধিকল্পে
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুারোকে (বিবিএস) আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন,
তৈরি পোশাকের বাইরে যেসব রপ্তানি পণ্য নতুন করে আমরা পাচ্ছি, সেগুলো মূলত কৃষি পণ্য।
এবার বাজেটে কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার উৎসাহিত করার মাধ্যমে রপ্তানি পণ্য বহুমূখীকরণের
উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রপ্তানি উপযোগি পণ্য তৈরিতে এই উদ্যোগ দারুন ফলপ্রসু হবে বলে তিনি
মন্তব্য করেন।
এমসিসিআই প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নিহাদ
কবীর বলেন, গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে এবারের বাজেটে বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে,
যা ব্যক্তিখাত বিকাশে ভূমিকা রাখবে। তবে এর জন্য তিনি বাজেটে গৃহীত কর্মসূচির সঠিক
বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।








