মুশফিকের আউটের পর চা বিরতিতে বাংলাদেশ
সিলেট টেস্টে ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করলেন
মুশফিকুর রহিম। প্রথম ইনিংসে ১৮ বলে ৪, এবার ২০ বলে ৪ রান করে ফিরে গেলেন। ৪১.৪
ওভারে তাকে ফিরিয়েছেন জিম্বাবুয়ে পেসার মুজারাবানি। নাজমুল হোসেন শান্ত ৪৪ রানে
ক্রিজে আছেন। চা বিরতির আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৫৫ রান। লিড ৭৩ রানের।
মুমিনুলের বিদায়ে ভাঙল জুটি
ফিফটির সম্ভাবনা জাগিয়ে ফিরে গেলেন মুমিনুল হক।
৮৪ বলে ৪৭ রান করে ভিক্টর নিয়াউচির শর্ট ডেলিভারিতে ফিরে যান টাইগার এই ব্যাটার।
ছয়টি চারে সাজানো ছিল মুমিনুলের ইনিংস। দলীয় ১৩৮ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
৩৭ ওভারে বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ১৪৬। ৫ বলে ২ রানে খেলছেন মুশফিক। বাংলাদেশ এখন
৬৪ রানে এগিয়ে।
উইকেটে এসেই আগ্রাসী শান্ত, বাংলাদেশের লিড
উইকেটে এসেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন নাজমুল হোসেন
শান্ত। রিচার্ড এনগারাভার করা ২৩তম ওভারে চারটি চার হাঁকান তিনি। তার আগ্রাসী
মনোভাবে সেই ওভারেই লিডের দেখা পায় বাংলাদেশ। ২৪ ওভারে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছে
বাংলাদেশের রান। ২৪ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ১০০। দুই ব্যাটসম্যানই খেলছেন
২২ রানে। শান্তর লেগেছে কেবল ১৭ বল, মুমিনুল হকের ৫২।
শর্ট বলেই ফিরলেন জয়
বেশ কিছুক্ষণ ধরেই শর্ট বলে ভুগছিলেন মাহমুদুল
হাসান জয়। শেষ পর্যন্ত সেই শর্ট বলেই পরাস্ত হলেন টাইগার এই ওপেনার। মুজারাবানির
শর্ট বল খেলতে গিয়ে বল তার গ্লাভসে লেগে গেল প্রথম স্লিপে ক্রেইগ আরভিনের হাতে। ৬৫
বলে ৩৩ করে ফিরলেন জয়। ২৩ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৯৪। বাংলাদেশের লিড ১২
রাঙের। ক্রিজে মুমিনুল হকের সঙ্গী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
অবশেষে শুরু খেলা
সকাল থেকে বৃষ্টির পর বেলা এগারোটায় বৃষ্টি
থামে। সাড়ে এগারোটার পর সরানো হয় কাভার। দুপুর একটায় শুরু হয় তৃতীয় দিনের খেলা। ২৫
রানে পিছিয়ে থেকে বাংলাদেশ তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করল। মাহমুদুল হাসান জয় ২৮ ও
মুমিনুল হক ১৫ রান নিয়ে নেমেছেন। ১৪ ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ৬০ রানে ব্যাট করছে
বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের থেকে এখনও ২২ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা।
বৃষ্টি থেমে রৌদ উঠেছে, খেলা শুরু দুপুর একটায়
বেলা সাড়ে এগারোটার পর সিলেটের আকাশে রৌদ গেছে।
নিকটবর্তী সময়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকায় সরানো হয়েছে কাভার। আকাশে রোদের দেখাও
মিলেছে। এবার জানা গেল খেলা শুরুর সময়। দুপুর একটায় শুরু হবে খেলা। চা বিরতি হবে
৩টা ২০ মিনিটে।
সিলেটে বৃষ্টি, খেলা শুরু হতে দেরি
সিলেটে সোমবার রাত থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি
হচ্ছিল। মঙ্গলবার সকাল গড়াতেই তা রূপ নেয় বজ্রসহ মুষলধারে বৃষ্টিতে। ফলে প্রথম
সেশনে খেলা হবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।
সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে
বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল মাত্র ১৯১ রানে। জবাবে জিম্বাবুয়ে তুলেছে ২৭৩ রান, ফলে ৮২
রানের লিড পায় সফরকারীরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ
করেছে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ৫৭ রান নিয়ে। সাদমান ইসলাম ৪ রানে আউট হয়ে ফিরেছেন।
অপরপ্রান্তে মাহমুদুল হাসান জয় ২৮ ও মুমিনুল হক ১৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী
হাসান মিরাজ মনে করিয়ে দিয়েছেন অতীতের ঘুরে দাঁড়ানোর উদাহরণ, ‘ওয়েস্ট
ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই টেস্ট মনে আছে? প্রথম ইনিংসে ১৬৪ রানে গুটিয়ে গিয়ে দ্বিতীয়
ইনিংসে ফিরে এসেছিলাম। সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা নিতে হবে।’
জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসের ২৫ রানের লিড
টাইগারদের চাপে ফেললেও, মিরাজের বিশ্বাস, দ্বিতীয় ইনিংসে ৪০০ বা তার বেশি রান করে
জয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব। স্পোর্টিং উইকেট হলেও বড় লক্ষ্য তাড়া করা কঠিন হবে
জিম্বাবুয়ের জন্য, এমনটাই মনে করছেন তিনি।
টেস্টের প্রথম দুই দিনে খেলা হয়েছে মোট ছয়টি
সেশন। প্রতিটি সেশনেই পাল্টে গেছে ম্যাচের দৃশ্যপট। প্রথম দিনে বাংলাদেশ ১৯১ রানে
গুটিয়ে যাওয়ার পর জিম্বাবুয়ে ছিল ৬৭/০ অবস্থানে। বিশ্লেষকরা তখন এগিয়ে রেখেছিলেন
সফরকারীদের। তবে দ্বিতীয় দিনে বল হাতে নিয়ন্ত্রণে ফেরে স্বাগতিকরা।
বোলিংয়ে সমন্বিত পারফরম্যান্সে ভর করে বাংলাদেশ
ঘুরে দাঁড়ায়। বিশেষ করে, মেহেদী হাসান মিরাজের ছিল দুর্দান্ত দিন। ক্যারিয়ারে ১১
বার পাঁচ উইকেট নেওয়া এই স্পিনার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আরও ভালো কিছু করতে মুখিয়ে
আছেন। তিন পেসার নাহিদ রানা, হাসান মাহমুদ ও খালেদ আহমেদও ছিলেন কার্যকর।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ শুরু করে ৮২ রানে
পিছিয়ে থেকে। তবে সাদমান মাত্র ৪ রান করে বিদায় নেন। এরপর জয় ও মুমিনুল হকের জুটি
দিন শেষ করে ৫৭/১ স্কোরে। এখনো ২৫ রানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের শুরুটা
তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মিরাজের মতে, যদি জয় ও মুমিনুল প্রথম ঘণ্টা
ভালোভাবে কাটিয়ে দিতে পারেন, তাহলে দিনটি হতে পারে বাংলাদেশের জন্য ‘সোনালি
সকাল’।








