দুই কোম্পানির ক্যাটেগরি পরিবর্তন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির ক্যাটেগরি পরিবর্তন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি: কোম্পানিটি তাদের ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করায় তাদের কোম্পানির শেয়ারের ক্যাটেগরি পরিবর্তন হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে কোম্পানিটি ‘জেড’ থেকে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক জারি করা নিয়ম অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো সিকিউরিটির ক্যাটেগরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পরিবর্তিত ক্যাটেগরিতে ওই সিকিউরিটি ক্রয়ের জন্য মার্জিন ঋণ প্রদানে প্রথম ৩০ দিন নিষেধাজ্ঞা জানানো হয়েছে।

এখানে উল্লেখ্য, কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ২০ শতাংশ নগদ (সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের) ও ১০ শতাংশ বোনাস (উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের) লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। ২০২৪ সালের ৩০ জুন হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ২৬ পয়সা এবং ৩০ জুন ২০২৪ তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৩৭ পয়সা। আর আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থ প্রবাহ হয়েছে ৭৮ পয়সা (ঘাটতি)। ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানিটি ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৩০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ২৩১ কোটি টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৩৭৮ কোটি ১১ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট ২৩ কোটি ১০ লাখ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেড: কোম্পানিটি যথাসময়ে ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের কোম্পানির শেয়ারের ক্যাটেগরি পরিবর্তন হচ্ছে। গতকাল বুধবার থেকে কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক জারি করা নিয়ম অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো সিকিউরিটির ক্যাটেগরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পরিবর্তিত ক্যাটেগরিতে ওই সিকিউরিটি ক্রয়ের জন্য মার্জিন ঋণ প্রদানে প্রথম ৩০ দিন নিষেধাজ্ঞা জানানো হয়েছে।

এখানে উল্লেখ্য, কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ (উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ব্যতীত) দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু যথাসময়ে কোম্পানিটি ওই লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই তাদের শেয়ার ক্যাটেগরি পরিবর্তন হলো। ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪১ পয়সা (লোকসান), আর ২০২৪ সালের ৩০ জুন তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৬৪ পয়সা। এছাড়া আলোচিত হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ১ পয়সা।

এর আগে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন, ২০২৩ সমাপ্ত হিসাববছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ পয়সা। ৩০ জুন, ২০২৩ তারিখে শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ৭৬ পয়সা। এছাড়া এই হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৩৯ পয়সা। এর আগে এদিকে ২০২২ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ (শুধু সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের) এবং ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ (সব শেয়ারহোল্ডারদের) দিয়েছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ পয়সা এবং ২০২২ সালের ৩০ জুনে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ৮৮ পয়সা। আর আলোচিত হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থ প্রবাহ হয়েছে ৩ টাকা ৭১ পয়সা।

কোম্পানিটি ১৯৮৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ৩০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১০৫ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২২৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। কোম্পানিটির ১০ কোটি ৫৫ লাখ ৪৪ হাজার ৯৯৫ শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কাছে ২৯ দশমিক ৩২ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৪ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে বাকি ৩৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার।