কাজুবাদাম চাষে চট্টগ্রামেও সাফল্য

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো উচ্চ মূল্যের কাজুবাদাম চাষে সফলতা এসেছে। গাছ লাগানোর এক বছরের মাথায়ই ভালো ফলন মিলেছে। পার্বত্য অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে অনেক আগে থেকে কাজুবাদাম চাষ হলেও এর আগে চট্টগ্রামে কখনও মূল্যবান এ ফলের চাষ হয়নি। সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকার মাটি কাজুবাদামের জন্য উপযোগী হওয়ায় সেখানে চাষাবাদ চলছে।
ইন্ডিয়ান এম-২৩ জাতের গাছ থেকে এক বছরে তিনবার ফলন পেয়েছেন সীতাকুণ্ডের তরুণ কৃষক সাবের শাহ ইমন। প্রতিবারই একটি গাছ থেকে এক কেজির বেশি ফলন মিলেছে। তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে এ ফলটির ৮০টি গাছ লাগিয়েছেন।
চট্টগ্রাম নগরে কাজুবাদামের দুটি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা থাকায় ফলন ভালো হলে লাভবান হওয়ার আশা করছেন ইমন। কাজুবাদাম চাষ নিয়ে স্বপ্ন বুনছেন তিনি।
দেশের স্থানীয় বাজারে এখন প্রতি কেজি কাজুবাদাম বিক্রি হয় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি করা যায়।
কৃষক ইমন বলেন, গাছ দেওয়ার সময় কৃষি অফিস থেকে বলা হয়েছিল, ফলন পেতে সাত বছর লাগবে। কিন্তু গাছ লাগানোর এক বছর পরই ফল পেতে শুরু করেছি। চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় কৃষকরা বাণিজ্যিক ফল চাষেই বেশি আগ্রহী। চারা লাগানোর বহু বছর পর ফলন দেওয়া গাছের চাষাবাদে কেউ আগ্রহী হন না।
ইমন জানান, তিনি আগামী বছর থেকেই লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। চট্টগ্রামে বেসরকারি উদ্যোগে প্রসেসিং কারখানা ও কাজুবাদাম রপ্তানি হওয়ায় এ ফসল চাষে আগ্রহ কয়েক গুণ বেড়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুচ ছোবহান বলেন, উচ্চ মূল্যের কাজুবাদাম দেশের নতুন অর্থকরী ফসল। কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কাজুবাদামের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।
দেশীয় বাজারে কাজুবাদামের অনেক চাহিদা রয়েছে। সে তুলনায় উৎপাদন কম। আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার কাজুবাদামের চাষ বাড়াচ্ছে। চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকা কাজুবাদামের বাণিজ্যিক চাষের উপযোগী। তাই সীতাকুণ্ডসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ্ বলেন, আমগাছের তুলনায় কাজুবাদাম গাছের পরিচর্যা অনেক সহজ। তাই সীতাকুণ্ডের বেশ কয়েকজন কৃষক কাজুবাদাম চাষ শুরু করেছেন। গাছ লাগানোর তিন বছর পর থেকেই মূলত বাণিজ্যিকভাবে প্রতিটি গাছ থেকে তিন থেকে পাঁচ কেজি কাজুবাদাম পাওয়া যাবে। গাছ, জৈব, কম্পোস্ট সারসহ সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। প্রথমবারের মতো গাছ লাগিয়েই সফলতা পাচ্ছেন কৃষকরা।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ও উত্তর এয়াকুব নগর এলাকায় ইন্ডিয়ান জাত এম-২৩ জাতের কাজুবাদামের চাষাবাদ চলছে। গত বছর কৃষক ইমন ভাটিয়ারীর ৫০ শতাংশ পাহাড়ি জমিতে গাছ লাগান। এক বছরের মাথায় গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার গাছগুলোতে ফুল আসে। প্রতিটি গাছ থেকে তিনি প্রায় এক কেজি করে কাজুবাদাম পেয়েছেন। এর পর এপ্রিল ও জুনে আরও দু’বার ফলন পেয়েছেন। বাগানের ৮০টি গাছ থেকে প্রায় ৯০ কেজি বাদাম পেয়েছেন। তিনি এখন গাছের সংখ্যা আরও বাড়াতে শুরু করেছেন। প্রথমবার গাছ লাগিয়ে এর পরিচর্যা সঠিকভাবে করতে বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণও নেন তিনি। কৃষি বিভাগ ইমনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
চট্টগ্রামে কাজুবাদাম চাষ শুরু হওয়ায় নগরীর কর্ণফুলী ও পতেঙ্গায় এখন এ ফলটির দুটি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় প্রক্রিয়াজাত হওয়া বাদাম ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। স্থানীয় অভিজাত হোটেল ও রেস্তোরাঁয় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলায় প্রথমবারের মতো চাষ হলেও বান্দরবানে সবচেয়ে বেশি কাজুবাদামের চাষ হয়। রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতেও দিন দিন চাষাবাদ বাড়ছে। পার্বত্য অঞ্চলে ২০২০ সালে উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩২৩ টন কাজুবাদাম।








