সংবাদ সম্মেলনে ইভিএম নিয়ে চ্যালেঞ্জ না ছুড়ে সামনাসামনি আসেন: ইসি হাবিব

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
১৫০ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো
ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর যে কোনো প্রশ্ন, আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে- তা নিয়ে সংবাদ
সম্মেলনে চ্যালেঞ্জ না ছুড়ে সামনাসামনি এসে কথা বলতে বলেছেন নির্বাচন কমিশনার
(ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান।
ইভিএম নিয়ে চ্যালেঞ্জ ও প্রশ্ন তুলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাম্প্রতিক
সংবাদ সম্মেলনের প্রতি ইঙ্গিত করে ইসি হাবিব এ কথা বলেন।
বুধবার
রাজধানীর নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পালটা প্রশ্ন ছুড়ে
আহসান হাবিব খান বলেন, ইভিএমে কারচুপি নিয়ে চ্যালেঞ্জ যদি করতেই হয় সংবাদ সম্মেলনে
কেন? আমাদের কাছে এসে চ্যালেঞ্জ করতে অসুবিধা কী?
গত ২৮
আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ইভিএমের অডিট
কার্ড পরিবর্তন করে ভোটের ফলাফল পাল্টে দেওয়া সম্ভব। এ ছাড়া আঙুলের ছাপ না মিললে
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার আঙুলের ছাপ দিয়ে ওভাররাইট করে ব্যালট ইউনিট ওপেন করার বিষয়টি
নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।
ইসি হাবিব
বলেন, আমরা ইভিএম নিয়ে জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি, রাজনৈতিক দলের টেকনিক্যাল কমিটির
সঙ্গে বসেছি। তাদেরও ডেকেছি। তারা কিন্তু আসেননি। আমরা পাঁচ মাস ধরে সময় দিয়েছি।
কেন হঠাৎ করে এ সংবাদ সম্মেলন, উদ্দেশ্যটা কী?তাদের জন্য আমাদের দরজা সব সময় খোলা।
তারা একদিন না দশদিন আসবে, ভীতি কোথায়? চ্যালেঞ্জ যদি করতেই হয়, সংবাদ সম্মেলনে
কেন, আমাদের এখানে এসে চ্যালেঞ্জ করুক। তারা আমাদের চেয়ে অনেক শিক্ষিত, অনেক বড়।
কাজেই আমাদের এখানে এসে চ্যালেঞ্জ করতে অসুবিধা কী?
সাংবাদিকদের
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা চারটা নির্বাচন করলাম, কজন মারা গেছে? কয়টা
জায়গায় অরাজকতা হয়েছে? অনিয়ম হলে সেটা তুলে ধরেন, অসুবিধা নেই।
‘অসততা, অস্বচ্ছতা, পক্ষপাতিত্ব যদি চোখে পড়ে, প্লিজ লেট
মি নো। আমাকে জানান, তার প্রতিকার, জবাব দিয়ে তৃপ্ত করে ছাড়বো। কাজ করতে গেলে ভুল
হতে পারে। আপনি দেখবেন ইচ্ছাকৃত ভুল হলো কি না। একটা ইচ্ছাকৃত ভুল, আরেকটা হচ্ছে
অনিচ্ছাকৃত ভুল। আমাকে পর্যবেক্ষণ করেন।’
ইসি হাবিব
বলেন, জনগণের আস্থা অবশ্যই আসবে। দলগুলোর যে অনাস্থা এটা অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে
আসতে পারে। অতীত থেকে আমরা শিক্ষা নেব। কিন্তু ভবিষ্যৎ সুন্দর হবে, এটা
গ্যারান্টেড। আপনারাও বুঝতে পারবেন। সামনের সিটি, গাইবান্ধার উপনির্বাচনসহ যেখানে
ইভিএম হবে সেখানেই ভোটাররা বলবে ইভিএমই ভালো।
‘আমরা ইমানের সঙ্গে কাজ করে যাব। সঠিক কাজ করে যাব। ক্ষমা
চাইব না। ভুল করলে শুধরে নেব।’
আমাদের
দেশে অনেকেই আছেন যারা সংকট তৈরি করতে চান, ঘোলাভাবে শিকার করতে চান এমন মন্তব্য
করে ইসির এ কমিশনার বলেন, সরকার ও বিরোধী দল থেকে অনেকেই ইভিএম চাচ্ছেন। আবার কেউ
কেউ আমাকে ‘ইভিএম দিয়েন না, আমার এলাকার অশিক্ষিত মানুষ বেশি’
এমনও বলছে। বিদেশে থাকা সন্তানের সঙ্গে যদি মোবাইলে ভিডিও কলে কথা বলতে পারে,
দুটি বোতাম চাপতে পারবে না? কাজেই এটা অসৎ উদ্দেশ্য।’
আঙুলের ছাপ
না মিললে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার আঙুলের ছাপ দিয়ে ওভাররাইট করে ব্যালট ইউনিট ওপেন
করার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, আঙুলের ছাপ না মিললেও যখন নম্বরটা দেওয়া হয়, তখন
কিন্তু ভোটারের পরিচয় মেলে। আঙুলের ছাপ না মিললে ওভাররাইট করলে সেটা কিন্তু
সংরক্ষিত থাকছে।
‘নির্বাচনে প্রযুক্তি নিয়ে আমাদের চলতে হবে। কারো যদি কোনো
প্রশ্ন বা সন্দেহ থাকে- আমাদের কাছে আসেন, দেখেন। প্রতিটি পর্বে আমরা ইভিএম দেখার ব্যবস্থা
করেছি, তাদের থাকতে বলেছি।’
ইসি হাবিব
আরও বলেন, ভালো-মন্দ তো সব জায়গায় আছে। যারা সততার সঙ্গে কাজ করবে তাদেরই আমরা
রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নেব।








